| বঙ্গাব্দ

কঙ্গোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণের অভিযোগ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-07-2025 ইং
  • 4524735 বার পঠিত
কঙ্গোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণের অভিযোগ | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: কঙ্গোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে যৌন শোষণের অভিযোগ

 কঙ্গোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের অন্ধকার মুখ: দিমিত্রিদের কেউ খোঁজ রাখে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৬ জুলাই ২০২৫ | বাংলাদেশ প্রতিদিন

পূর্ব কঙ্গোর গোমা শহরের বিরেরে নামের বস্তিতে লোহার পাতের ছোট্ট ঘরে থাকেন ১২ বছরের দিমিত্রি (ছদ্মনাম)। তার মা কামাতে একজন স্থানীয় নারী। আর বাবা? জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ইউনিটে নিযুক্ত এক রাশিয়ান সেনা, যিনি এখন নিখোঁজ ইতিহাস।


🇺🇳 শান্তির নামে শোষণ: কঙ্গোর ভেতর জাতিসংঘের কালো অধ্যায়

১৯৯৯ সাল থেকে কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন MONUSCO নিয়োজিত। যদিও তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাস্তবে বহু অভিযোগ উঠেছে—বিশেষত যৌন শোষণ, নারীদের সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পর্ক, এমনকি শিশু জন্মের পর বাবা হিসেবে দায়িত্ব না নেওয়ার ঘটনা।

জাতিসংঘের নিজস্ব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে কেবল কঙ্গোতেই শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ৬৬টি। এতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৩ জন, যার মধ্যে ২৮ জন শিশু।

দিমিত্রি: অবহেলার প্রতীক

কামাতে বলেন,

“দিমিত্রির চুল কোঁকড়ানো, গায়ের রঙ হালকা—তাই ওকে প্রায়ই 'ভিন্ন' বলে ডাকা হয়। সেজন্য ঘরেই লুকিয়ে থাকে।”

তার কাছে একটি পুরনো সামরিক টুপি আর একটি ছবি আছে—ইউরি নামের সেই রাশিয়ান সেনার, যিনি ভালোবাসা আর দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু গর্ভধারণের কিছুদিন পরই ফোন বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

অন্য গল্প, একই ট্র্যাজেডি: মারিয়া ও কুইন

১৭ বছর বয়সী মারিয়া MINUGI ঘাঁটির কাছে এক দক্ষিণ আফ্রিকান শান্তিরক্ষীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। সেই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেয় কুইন। কিন্তু শিশুটি জন্মের পরই সেনা সদস্যটি গায়েব হয়ে যায়।

এখন মারিয়া বেঁচে থাকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পতিতাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন:

“সে জানতো আমি প্রাপ্তবয়স্ক না। তবুও বাসা ভাড়া নিয়ে দেখা করতো।”

দায় এড়িয়ে যাচ্ছে সবাই

বিষয়বাস্তবতা
জাতিসংঘ নীতিযৌন সম্পর্ক হলে সেটিও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত
শাস্তিঅনেক সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিজ দেশেই বিচার হয় না
জাতিসংঘের দাবিঅভিযুক্তদের 'স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা' ও পুনর্বাসন সহায়তা
বাস্তবতাভুক্তভোগীরা সহায়তা পান না, অনেকে বিচার চাওয়ার সাহসও করেন না
অনাথ সন্তানেরা: ভুলে যাওয়া উত্তরসূরি

কঙ্গোর একটি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র জানায়, অন্তত ৫টি শিশু সেখানে আছে যারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সন্তান। তাদের মায়েরা বাধ্য হয়ে সন্তান রেখে চলে গেছেন।

কেন্দ্রের পরিচালক নেলি কাইয়া বলেন:

"আমরা প্রায় ২০০ নারী ও কিশোরীকে সহায়তা করি। তাদের অনেকেই আজ জীবন বাঁচাতে দেহ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন।"

 অধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ

SOFEPADI নামে নারী অধিকার সংস্থা বলছে, জাতিসংঘের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়ন খুব দুর্বল।
স্যান্ড্রিন লুসামাবা, সংস্থাটির জাতীয় সমন্বয়ক বলেন:

"জাতিসংঘ সরাসরি অভিযুক্তদের বিচার করতে পারে না, আবার অনেক রাষ্ট্রই তাদের সেনাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না।"

পরিসংখ্যানের ভাষায় কঙ্গো মিশনের যৌন শোষণ

বছরঅভিযোগশিশু ভুক্তভোগীকঙ্গো মিশনের বিরুদ্ধে
২০২৩১০০২৮৬৬
২০২২৯৪২৫৬১
সূত্র: UN Secretary-General’s Annual Reports on SEA


প্রতিবেদক :বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency